অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত হলো যখন কোনো কম্পিউটার সফটওয়্যার মানুষের অতীতের বৈষম্যমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে নির্দিষ্ট জাতি, লিঙ্গ বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। অনেকের ধারণা কম্পিউটার সবসময় নিরপেক্ষ ও ন্যায়পরায়ণ, কিন্তু তাকে শেখানোর তথ্য যদি একপেশে হয় তবে প্রযুক্তি পুরোনো সামাজিক বৈষম্যকেই আরও পাকাপোক্ত করে। এই ত্রুটি জানা থাকলে প্রযুক্তি ব্যবহারে সমতার দাবি তোলা সম্ভব হয়।
নিউরাল যান্ত্রিক অনুবাদ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন এক আধুনিক ভাষা রূপান্তর ব্যবস্থা, যা ডিকশনারির একটি শব্দের বিপরীতে আরেকটি শব্দ না বসিয়ে পুরো বাক্যের ভাবমর্ম ও প্রেক্ষাপট গভীরভাবে বুঝে স্বাভাবিক অনুবাদ করে। এর ফলে বাগধারা, প্রবাদ-প্রবচন এবং ভাষার আঞ্চলিক মাধুর্য নষ্ট হয় না এবং লেখাটি কোনো মানুষের স্বহস্তে অনুবাদ করা প্রাঞ্জল রচনার মতো শোনায়। বিভিন্ন ভাষার মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন রচনায় এটি অভাবনীয় বিপ্লব ঘটিয়েছে।
লেখা থেকে ছবি (টেক্সট-টু-ইমেজ) হলো এমন এক সৃষ্টিশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, যা আপনার লেখা সাধারণ বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে চোখের পলকে সম্পূর্ণ নতুন ডিজিটাল চিত্রকর্ম বা ছবি এঁকে দিতে পারে। শব্দের ভাবার্থ, রঙের আবহ এবং দৃশ্যের বিন্যাস অনুধাবন করে সফটওয়্যারটি আমাদের মনের কল্পনাকে সরাসরি পর্দায় ফুটিয়ে তোলে। আঁকাআঁকির আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও নিজের কল্পনাকে শিল্পকর্মে রূপ দিতে এই মাধ্যমটি বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
সুপারিশ ব্যবস্থা (রেকমেন্ডেশন সিস্টেম) হলো ইউটিউব, ফেসবুক বা অনলাইন শপিং অ্যাপে ব্যবহৃত এমন এক গাণিতિક ফর্মুলা যা আপনি ভবিষ্যতে কোন ভিডিওটি দেখতে চাইবেন বা কী কিনবেন তা আগেভাগেই অনুমান করে আপনার পর্দায় সাজিয়ে দেয়। আপনি অতীতে কী দেখেছেন, কোন পোস্টে কত সেকেন্ড থেমেছেন এবং কী পছন্দ করেছেন—তার নিখুঁত হিসাব রাখে এই প্রযুক্তি। পর্দার আড়ালের এই হিসাব জানা থাকলে আমরা মোবাইল ব্যবহারের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারি।